দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিবরণ


ফজরের নামাজ

ফজরের নামাজ (আরবি: صلاة الفجر‎ সালাতুল ফজর) সকল মুসলমান এর অবশ্য পালনীয় দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অন্যতম। নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম।
ফজরের নামাজ মোট চার রাকাত, দুই রাকাত সুন্নত ও দুই রাকাত ফরজ নামাজ নিয়ে গঠিত। ফরজ অংশ ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে আদায় করতে হয়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত ফজরের নামাজের সময়।

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِ سُنَّةُ رَسُوْلُ للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল ফাজরে সুন্নাতু রাছুলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
অনুবাদ: কোবালামুখী হইয়া ফযরের দুই রাকায়াত সুন্নত নামায আল্লাহর জন্য পড়িবার নিয়ত করিলাম আল্লাহু আকবার ।

ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত :

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِ فَرْضُ   للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল ফাজরে ফারযুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
অনুবাদঃ কোবালা মুখী হইয়া ফযরের দুই রাকায়াত ফরয নামায আল্লাহর জন্য পড়িবার নিয়ত করিলাম আল্লাহু আকবার।

ফজরের নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

নামাজ আদায় করা সবার জন্যই অবশ্য পালনীয় বা ফরজ ইবাদত। এর মধ্যে ফজর ও আসর নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, একদা আমরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। পূর্ণিমার চাঁদের প্রতি দৃষ্টি করে তিনি উপস্থিত সাহাবীদের বললেন, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে এরূপ স্পষ্টভাবে কোনোরকম ভিড় ও কোলাহল ছাড়াই দেখতে পাবে, যেমন এই পূর্ণিমার চাঁদ দেখছ। কিন্তু এই নেয়ামত হাসিলের জন্য সূর্যোদয় এবং অস্তের পূর্ববর্তী নামাজদ্বয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। – সহীহ বুখারী
আমরা যদি আল্লাহর দিদার লাভ করতে চাই তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে আদায় করতে হবে। নামাজের জামাতে শামিল হওয়ার ব্যাপারে এশা ও ফজর নামাজের জামাতের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কেননা নবী পাক (স.) বলেছেন, ‘এ দু’টি নামাজ (এশা ও ফজর) মুনাফেকদের জন্য খুবই কষ্টকর। এ নামাজ দু’টি জামাতে আদায় করায় কত যে পুণ্য রয়েছে তা যদি লোকেরা জানতে পারত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তা আদায় করতে আসত।’ -সহীহ বুখারী ও মুসলিম
হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কেউ যদি এশা ও ফজরের জামাতে উপস্থিত না হতো, তবে আমরা মনে মনে ভাবতাম, হয়তো সে মুনাফিক হয়ে গেছে। – বাযযার, তাবারানী, ইবনে খুযায়মা
শাইখ উবায়দুল্লাহ বিন উমার কাওয়ারীরী (র.) বলেন, ‘এশার নামাজ জামাতে পড়তে আমার কখনো ভুল হয়নি। এক রাতে আমার বাড়িতে এক মেহমান আসলেন। তার আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকায় এশার জামাতে শামিল হতে পারলাম না। আমি বসরা নগরীর সব মসজিদে তালাশ করে দেখলাম, সবাই এশার নামাজ পড়ে মসজিদগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। যেহেতু হাদিসে আছে একাকী নামাজের চেয়ে জামাতের নামাজে ২৭ গুণ সওয়াব। তাই বাড়ি ফিরে আমি ২৭ বার এশার নামাজ পড়লাম। রাতে স্বপ্নে দেখলাম, আমি এক ঘোড়সওয়ার দলের সঙ্গে ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা করছি এবং সবার পেছনে পড়ে যাচ্ছি। তাদের একজন বললো, তুমি আমাদের কখনই ধরতে পারবে না। কেননা আমরা এশার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করেছি, আর তুমি একাকী আদায় করেছ।
উপরোক্ত হাদিস সমূহের আলোকে জামাতে নামাজ আদায় করা বিশেষ করে ফরজ ও এশা নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। আমরা যাতে শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করতে পারি আল্লাহপাক সমীপে সাহায্য কামনা করছি। তিনি অসীম দাতা এবং বড়ই মেহেরবান। আল্লাহ আমাদের জামাতে নামাজ আদায়ের তওফিক দান করুন।

যোহরের নামাজ

যোহরের নামাজ (আরবি: صلاة الظهر‎; সালাতুল যুহর) মুসলিমদের অবশ্য পালনীয় দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অন্যতম। নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। দৈনিক নামাজগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয়। এটি দুপুরের সময় আদায় করা হয়। যোহরের নামাজ চার রাকাত সুন্নত, চার রাকাত ফরজ ও এরপর দুই রাকাত সুন্নত নিয়ে গঠিত। ফরজ অংশ ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে আদায় করা হয়। তবে ব্যক্তি মুসাফির অবস্থায় থাকলে চার রাকাত ফরজকে সংক্ষিপ্ত করে দুই রাকাত করতে পারে ও সুন্নত আদায় না করতে পারে। শুক্রবার যোহরের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। জুমা ও যোহরের সময় শুরু ও শেষ হওয়ার নিয়ম একই।

 যোহরের চার রাকাআত সুন্নতের নিয়্যাত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْظُهْرِسُنَّةُ رَسُوْلِ للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকাআতি ছালাতিল জোহরে সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’য়াল মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।

যোহরের চার রাকাআত ফরযের নিয়্যাত

 نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْظُهْرِ فَرْضُ اللَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকাআতি ছালাতিজ জোহরে ফারজুল্লাহি তা’য়াল মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।

যোহরের দুই রাকাত সুন্নাত নামাযের নিয়ত

 نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى رَكْعَتِ صَلَوةِ الْظُهْرِسُنَّةُ رَسُوْلِ للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাআতি ছালাতিজ জোহরে সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’য়াল মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।

নফল নামাজের নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى رَكْعَتِ صَلَوةِالْنَفْلِ  مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ-
উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাআতি ছালাতিল নফলে মোহাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

আসরের নামাজ

আসরের নামাজ (আরবি: صلاة العصر‎; সালাতুল আসর) মুসলিমদের অবশ্য পালনীয় দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অন্যতম। নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। দৈনিক নামাজগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয়। এটি বিকেলের সময় আদায় করা হয়।
আসরের নামাজ চার রাকাত সুন্নত ও চার রাকাত ফরজ নিয়ে গঠিত। ফরজ অংশ ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে আদায় করা হয়। তবে ব্যক্তি মুসাফির অবস্থায় থাকলে চার রাকাত ফরজকে সংক্ষিপ্ত করে দুই রাকাত করতে পারেন।

আছরের চার রাকাআত সুন্নাতের নিয়্যাত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْعَصْرِسُنَّةُ رَسُوْلِ للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকাআতি ছালাতিল আসরি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’য়াল মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।

 

আছরের চার রাকাআত ফরজের নিয়্যাত

 نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْعَصْرِ  فَرْضُ اللَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবায়া রাকাআতি ছালাতিল আসরি ফারযুল্লাহি তা’য়াল মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।

মাগরিবের নামাজ

মাগরিবের নামাজ (আরবি: صلاة المغرب‎; সালাতুল মাগরিব) মুসলিমদের অবশ্য পালনীয় দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অন্যতম। নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। দৈনিক নামাজগুলোর মধ্যে এটি চতুর্থ। এটি সূর্যাস্তের পর আদায় করা হয়। মাগরিবের নামাজ তিন রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নত নিয়ে গঠিত। ফরজ অংশ ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে আদায় করা হয়।

মাগরিবের তিন রাকাআত ফরযের নিয়্যাত

 نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى ثَلَثَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْمَغْرِبِ فَرْضُ اللَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা সালাছা রাকায়াতি ছালাতিল মাগরিবে ফারযুল্লাহি তায়ালা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতি শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

মাগরিবের দুই রাকাআত সুন্নাত নামাযের নিয়্যাত

 نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى رَكْعَتِ صَلَوةِ الْمَغْرِبِ سُنَّةُ رَسُوْ ا الِلَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকায়াতি ছালাতিল মাগরিবে সুন্নাতু রাসুলল্লাহি তা’য়ালা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতি শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

 

এশার নামাজ

এশা আরবি শব্দ, অর্থ হলো সন্ধ্যা বা রাত; ‘আশা’ অর্থ সান্ধ্যকালীন আহার বা রাতের খাবার। পরিভাষায় এশা হলো যামিনীর প্রথম প্রহর। ইসলামী পরিভাষায় সন্ধ্যায় পশ্চিমাকাশের লালিমা উধাও হওয়ার পর থেকে মধ্য রজনী পর্যন্ত সময়কে ওয়াকতুল এশা বা এশার সময় বলা হয়। এ সময় যে নামাজ আদায় করা হয় তাকে সালাতুল এশা বা এশার নামাজ বলা হয়। এশার নামাজ সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে, ‘রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করবে।’ (সূরা বনি ইসরাঈল : ৭৮)।
এশার নামাজ ৪ রাকাত সুন্নত, ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, ২ রাকাত নফল, ৩ রাকাত বিতর

এশার চারি রাকাআত সুন্নত নামযের নিয়্যাত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَالَى اَرْبَعَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْعِشَاءِسُنَّةُ رَسُوْلِ للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তাআলা আরবায়া রাকাআতি ছালাতিল এশাই সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়াল মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।

এশার চারি রাকাআত ফরজ নামযের নিয়্যাত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْعِشَءِ فَرْضُ اللَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তাআলা আরবায়া রাকাআতি ছালাতিল এশাই ফারযুল্লাহি তায়াল মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর

এশার দুই রাকাত সুন্নাত নামাযের নিয়ত

 উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাআতি ছালাতিজ এশাই সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’য়াল মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।

বিতরের নামায পড়িবার নিয়ম

এশার নামায পড়িবার পর বিতরের তিন রাকাআত নামায পড়িতে হয়, ইহা ওয়াজিব। পুর্বে উল্লেখিত তিন রাকাআত বিশিষ্ট নামাযের মত বেতরের নামায পড়িবেন। তবে তৃতীয় রাকাআতে সূরায়ে ফাতিহার পর অন্য কোন সূরা বা আয়াত পড়িয়া আল্লাহু আকবর বলিয়া উভয় হস্ত কান পর্যন্ত উঠাইয়া পুনঃ হাত বাঁধিয়া দোয়ায়ে কুনুত পড়িবেন। তারপর রুকু সিজদা ইত্যাদি যথারীতি আদায় করিয়া নামায শেষ করিবেন।
রমজান মাস ব্যতীত সকল সময়ে বিতরের নামায একা একা এবং নিঃশব্দে পড়িতে হইবে। রমজান মাসে এই নমায জামায়েতের সাথে আদায় করা মুস্তাহাব। রমজান মাসে তারাবীর নামায শেষে ইমাম সাহেব প্রত্যেক রাকাতেরই সজোরে কেরাতে পাঠ করিবেন এবং তৃতীয় রাকাআতে ইমাম সাহেব কেরাআত শেষ করিয়া সশব্দে আল্লাহু আকবরবলিয়া কান পর্যন্ত হাত উঠাইয়া পুণরায় তাহা বাঁধিবেন।
মোক্তাদিগণ চুপে চুপে শুধু ইমামের অনুকরণ করিবে। হাত বাঁধিয়া সবাই চুপে চুপে দোয়ায়ে কুনুত পড়িবেন। পরে যথাবিহিত ইমাম সাহেব রুকু, সিজাদা, তাশাহুদ, দরূদ পড়িয়া ছালাম ফিরাইয়া নামায শেষ করিব, মোক্তাদিগহণ ও তাহার অসনুসরণ করিবেন। যদি কেহ দোয়ায়ে কুনুত না জানে তবে না শিখা পর্যন্ত সে দোয়য়ে কুনুতের স্থলে নিম্নেক্ত দোয়া পড়িবে।
উচ্চারনঃ রাব্বানাআতিনা ফিদ্দুনিয়া হাছানাতাও ওয়াফিল আখিরাতে হাচানাতাও ওয়াকিনা আজাবান্নার।

বিতিরের নামাযের নিয়্যাত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى ثَلَثَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْوِتْرِوَاجِبُ اللَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারনঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তাআলা সালাছা রাকায়াতি ছালাতিল বিতরে ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

দোয়ায়ে কুনুত ইহা বিতরের নামাযে পড়তে হয়

اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা ওয়ানুমিনু বিকা ওয়ানাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাসকুরুকা আলা নাক ফুরুকা ওয়ানাখলাউ উয়ানাত রুকু মাইয়্যাফযুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা বুদু ওয়ালাকা নুছালি্ল ওয়া নাস জুদু ওয়া ইলাইকা নাসয়া ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আজাবাকা ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মূলহিক।
অনুবাদ: হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করিতেছি, তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি, তোমার ভরসা করিতেছি। তোমার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করিতেছি, তোমার উপর ঈমান আনিতেছি, তোমার ভরসা করিতেছি তোমার গুণগান করিতেছি এবং তোমারই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। আমরা তোমাকে অস্বীকার করি না। যাহারা তোমার হুকুম অমান্য করে তাহাদের সঙ্গে আমরা সংশ্রব সংসগ্র পরিত্যাগ করি। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই ইবাদত করি, তোমারই খেদমতে হাজির হই এবং তোমার রহমতের আশা করি ও তোমার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চই তোমার আজাব অবিশ্বাসিগণ ভোগ করিবে।

 

 

 


Translate »
X
Positive SSL